logo
logo

আয়কর (Income Tax) ফাঁকি বা অনিয়ম একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ

Blog single photo

আয়কর (Income Tax) ফাঁকি বা অনিয়ম একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ, যার জন্য বাংলাদেশে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। এই শাস্তিগুলো মূলত আয়কর আইন, ২০২৩ (পূর্বের আইন: Income Tax Ordinance, 1984) এর বিভিন্ন ধারার অধীনে নির্ধারিত হয়।


আয়কর ফাঁকি বা অনিয়মের শাস্তি প্রধানত দুই প্রকারের: আর্থিক জরিমানা (Penalty) এবং কারাদণ্ড (Imprisonment)।

আয়কর ফাঁকি বা অনিয়মের শাস্তি

শাস্তির প্রকৃতি নির্ভর করে অনিয়মের ধরনের ওপর। নিচে প্রধান প্রধান শাস্তিগুলো তুলে ধরা হলো:

১. আর্থিক জরিমানা (Penalties)

এগুলো হলো সরাসরি করের সাথে অতিরিক্ত অর্থদণ্ড, যা কর কর্মকর্তা বা কমিশনার কর্তৃক আরোপ করা হয়।

অনিয়মের ধরন | আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা | জরিমানার পরিমাণ।

ক. কর পরিশোধে ব্যর্থতা | ধারা ২২২ | বকেয়া করের উপর প্রতি মাসে ২ শতাংশ (২%) হারে সরল সুদ (Simple Interest)।

খ. আয় লুকানো বা মিথ্যা বিবরণ | ধারা ২৩৩ | লুকানো বা মিথ্যাভাবে দেখানো আয়ের ওপর আরোপিত করের নূন্যতম ৫০% থেকে সর্বোচ্চ ১০০% পর্যন্ত জরিমানা।

গ. নির্ধারিত সময়ের পর রিটার্ন দাখিল | ধারা ২৩২ | যদি বৈধ কারণ ছাড়া রিটার্ন দাখিলে বিলম্ব হয়, তবে প্রতি মাসে বকেয়া করের উপর ২ শতাংশ (২%) হারে জরিমানা।

ঘ. টিআইএন (TIN) ব্যবহার না করা | ধারা ২৫৬ | যে ক্ষেত্রে টিআইএন ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক, কিন্তু তা না করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সর্বোচ্চ ২০,০০০ টাকা জরিমানা।

ঙ. কর কর্মকর্তার নির্দেশনা অমান্য | ধারা ২৪৩ | তলব করা কাগজপত্র বা তথ্য সরবরাহ না করলে ২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা এবং প্রতিদিনের ব্যর্থতার জন্য অতিরিক্ত ১,০০০ টাকা জরিমানা।

২. কারাদণ্ড এবং ফৌজদারি মামলা (Prosecution and Imprisonment)

গুরুতর এবং ইচ্ছাকৃত কর ফাঁকির ক্ষেত্রে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয় এবং কারাদণ্ড হতে পারে। এই শাস্তিগুলো আদালত কর্তৃক নির্ধারিত হয়।

অপরাধের ধরন | আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা |


শাস্তির বিধান

ক. কর ফাঁকি বা ইচ্ছাকৃত জালিয়াতি | ধারা ২৮৫ | সর্বনিম্ন ৬ মাস থেকে সর্বোচ্চ ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড।

খ. মিথ্যা বিবৃতি বা তথ্য প্রদান | ধারা ২৮৮ | কর নির্ধারণের সময় মিথ্যা তথ্য বা বিবৃতি দিলে সর্বনিম্ন ৩ মাস থেকে সর্বোচ্চ ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড।

গ. কর কর্তনে ব্যর্থতা (TDS) | ধারা ২৮৭ | উৎসে কর (TDS) কর্তন করতে ব্যর্থ হলে বা কর্তন করেও সরকারি কোষাগারে জমা দিতে ব্যর্থ হলে সর্বনিম্ন ৩ মাস থেকে সর্বোচ্চ ৭ বছ পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড।

ঘ. প্রমাণপত্র নষ্ট করা | ধারা ২৯২ | তদন্ত চলাকালীন বা অন্য কোনো আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যবহারের জন্য থাকা নথি বা প্রমাণপত্র ইচ্ছাকৃতভাবে নষ্ট, বিকৃত বা মুছে ফেললে সর্বোচ্চ ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড।

৩. অপরাধের প্রক্রিয়া (Procedure of Prosecution)

ফৌজদারি মামলা দায়েরের আগে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) বা আয়কর কমিশনারকে অবশ্যই মামলা করার জন্য লিখিত অনুমোদন দিতে হবে।

জরিমানা বা জরিমানা আরোপের বিরুদ্ধে আপিল বা বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (Alternative Dispute Resolution - ADR) করার সুযোগ রয়েছে।

দ্রষ্টব্য: 'আয়কর ফাঁকি' এবং 'কর পরিহার' (Tax Avoidance) দুটি ভিন্ন বিষয়। কর ফাঁকি বেআইনি, কিন্তু কর পরিহার হলো আইনের ফাঁক বা সুযোগ ব্যবহার করে আইনগতভাবে কর কমানো। তবে, বর্তমানে আইনটি কর ফাঁকির বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর।

আয়কর আইন, ২০২৩ (২০২৩ সনের ১২ নং আইন) এর সংশোধন বর্তমান অর্থ অধ্যাদেশে ২০২৫ উপরে উল্লেখিত আয়কর আইন ২০২৩ এর কোন ধারার পরিবর্তন হয়নি।



অ্যাডভোকেট মো. নাজমুল হাসান

আইনজীবি ও লেখক।

আপনার মতামত লিখুন

Top