১. মূলনীতি ও সাধারণ ব্যতিক্রমসমূহ (General Principles and Exceptions)
এগুলো প্রতিটি ফৌজদারি মামলার ভিত্তি তৈরি করে।
সাধারণ ব্যাখ্যা (ধারা ৬ - ৫২ক): দণ্ডবিধির ব্যবহৃত শব্দাবলী, যেমন—'সরকার', 'সরকারি কর্মচারী', 'সৎ বিশ্বাস', 'অবৈধ', ইত্যাদি সংজ্ঞা জানা অপরিহার্য।
সাধারণ ব্যতিক্রমাবলী (ধারা ৭৬ - ১০৬): এই ধারাগুলো এমন পরিস্থিতি চিহ্নিত করে যখন কোনো কাজ অপরাধ বলে গণ্য হয় না। এটি যেকোনো প্রতিরক্ষা (Defence) তৈরির ভিত্তি। যেমন:-
শিশুর কাজ (ধারা ৮২, ৮৩)।
নিজের অনিচ্ছাকৃত ভুল (ধারা ৭৬, ৭৯)।
আকস্মিক দুর্ঘটনা (ধারা ৮০)।
আত্মরক্ষার অধিকার বা ব্যক্তিগত প্রতিরক্ষা (ধারা ৯৬ - ১০৬)। এটি ফৌজদারি মামলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষার একটি।
২. অপরাধের প্রকারভেদ ও সংশ্লিষ্ট শাস্তি (Classification of Offences and Punishment)
এটি আইনজীবীর কাজের মূল অংশ। তাকে অবশ্যই জানতে হবে কোন কাজ কী অপরাধ এবং তার শাস্তি কী।
শাস্তিসমূহ (ধারা ৫৩ - ৭৫): বিভিন্ন প্রকার শাস্তি (মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন, সশ্রম/বিনাশ্রম কারাদণ্ড, জরিমানা) এবং পূর্ববর্তী দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ক্ষেত্রে শাস্তির বিধান জানা।
অপরাধ করার প্ররোচনা/উসকানি (Abetment) (ধারা ১০৭ - ১২০): প্ররোচনার সংজ্ঞা এবং এর শাস্তি জানা।
অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র (Criminal Conspiracy) (ধারা ১২০ক, ১২০খ): যৌথভাবে অপরাধ করার পরিকল্পনা ও তার শাস্তি।
মানব দেহের বিরুদ্ধে অপরাধ (Offences Affecting the Human Body):
অপরাধজনক নরহত্যা ও খুন (ধারা ২৯৯ - ৩০২)।
আহত করা, গুরুতর আঘাত করা (ধারা ৩১৯ - ৩৩২)।
জোরপূর্বক আটক বা অবৈধ নিয়ন্ত্রণ (ধারা ৩৩৯ - ৩৪০)।
সম্পত্তি সংক্রান্ত অপরাধ (Offences Against Property):
চুরি, চাঁদাবাজি, দস্যুতা, ডাকাতি (ধারা ৩৭৮ - ৪০০)।
অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গ (Criminal Breach of Trust) (ধারা ৪০৫)।
প্রতারণা (Cheating) (ধারা ৪১৫)।
মিথ্যা দলিল তৈরি ও জালিয়াতি (Forgery) (ধারা ৪৬৩ - ৪৬৬)।
রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপরাধ (Offences Against the State) (ধারা ১২১ - ১৩০): রাষ্ট্রদ্রোহের মতো গুরুতর অপরাধগুলো।
বিবাহ সম্পর্কিত অপরাধ (Offences Relating to Marriage) (ধারা ৪৯৩ - ৪৯৮): বিশেষ করে ৪৯৮ক (যা ভারতে বাতিল হয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশে এখনও প্রাসঙ্গিক)।
৩. অপরাধের প্রচেষ্টা (Attempt to Commit Offences)
প্রচেষ্টা (ধারা ৫১১): কোনো অপরাধ করার প্রচেষ্টার সংজ্ঞা এবং এর শাস্তি জানা। এটি অনেক মামলার ভিত্তি।
একজন আইনজীবী যখন একটি ফৌজদারি মামলার প্রস্তুতি নেন, তখন তাকে জানতে হয় অভিযুক্তের কাজটি দণ্ডবিধির কোন ধারার অধীনে অপরাধ এবং অভিযুক্তের কোনো আত্মরক্ষার অধিকার ছিল কি না (সাধারণ ব্যতিক্রমাবলী)। এই জ্ঞানের ওপরই একটি মামলা দাঁড় করানো বা ভেঙে দেওয়া নির্ভর করে।
Lawyer & Writer e
সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ